গাজীপুরের শ্রীপুরে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর, নির্যাতন ও সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মর্জিনা আক্তার (২৮) বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে শেরপুর জেলার মর্জিনা ও শ্রীপুরের বহেরারচালা এলাকার মোঃ মেহেদী হাসান নান্নুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছোট্ট মেয়ে বয়স ২বছর এবং বড় মেয়ে আয়েশা আক্তার বয়স চার। বাচ্চাটি রেখে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন গত দেড় মাস ধরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সে অন্যের বাড়িতে থাকেন। মর্জিনা আক্তার জানান আমার বাড়ি থেকে সারে চার ভরি স্বর্ণ ও ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে নগদ ৫ লক্ষ টাকা তাকে প্রদান করি। আমার স্বামী মাদক ও অনলাইনে মোবাইলে জুয়া খেলে। আমি স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করি আমার বেতনও সে নিয়ে নেয় সংসারে সব সময় অভাব অনটন লেগেই থাকে। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি মর্জিনার মায়ের কাছ থেকেআরো ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। পরে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার বেতনের টাকা স্বামী নিয়ে নেশা ও অনলাইন জুয়ায় ব্যয় করতেন। একপর্যায়ে স্বামী ও তার সহযোগীদের প্ররোচনায় তার কাছে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মর্জিনা বলেন, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তার স্বামী আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও ব্যথাযুক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্বামীসহ অন্যরা তাকে নাবালক সন্তানসহ এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এ সময় তার সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার স্বামী রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন মর্জিনা। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার সময় যৌতুকের টাকা ছাড়া ওই বাড়িতে গেলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমানে সন্তান নিয়ে তিনি শ্রীপুরের বেড়াইদেরচালা এলাকায় অন্যের বাসায় অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। এতে কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান নান্নু বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বড় ভাই ফরিদ শিকদার জানান ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পরকিয়ায় আসক্ত ছিল। পরে তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান স্বামী কর্তৃক মারধর ও নির্যাতনের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।