বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রীপুরে শিক্ষক ফারুকের ড্রাগন বাগানে সাফল্য, বছরে ফলন ২০ লাখ টাকা শ্রীপুরে বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ অস্বীকার, তথ্য যাচাই করেই দলিল সম্পাদন শ্রীপুরে বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ অস্বীকার, তথ্য যাচাই করেই দলিল সম্পাদন মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি এবং সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। পরিকল্পিতভাবে দলিল লেখক হাদিউল ইসলাম-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রারকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা বনভূমি রেজিস্ট্রির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি প্রতিটি দলিলের দাতা-গ্রহীতার পরিচয়, মালিকানার কাগজপত্র, দাগ-খতিয়ান ও পূর্ববর্তী দলিল যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী দলিল সম্পাদন করেন। তার দায়িত্বকালে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার মতো কোনো অনিয়ম ঘটেনি বলেও দাবি করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী মৌজার সিএস ৫৩ নম্বর দাগের সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির ক্রেতা হিসেবে ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা তৌহিদুল আলম মিলকি এবং দাতা হিসেবে ফেনী সদর উপজেলার চাড়িপুর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম নাহিদ-এর নাম উল্লেখ করা হয়। ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওই জমির ১২৯৮২/২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। উক্ত সাব কবলা দলিলটি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় উল্লেখিত দলিলের তফসিলে এস এ দাগ ৫৭০ খতিয়ান ১৮ এবং আর এস দাগ ১০৬৯ খতিয়ান ১৫২ এর সাথে সরকারি গেজেট ভুক্ত বনের কোন সম্পত্তির মিল নেই। অর্থাৎ সরকারি গেজেট ভুক্ত বনের কোন সম্পত্তির দলিল সম্পাদিত হয় নাই। দলিলটির লেখক হিসেবে উত্তর পেলাইদ এলাকার হাদিউল ইসলাম (সনদ নং-১১১)-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সিএস ৫৩ নম্বর দাগ অনুযায়ী কোনো দলিল সম্পাদন হয়নি। তাই সোহেল রানার বিরুদ্ধে জেনে-শুনে বনভূমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১০ সালের ৬৬২৪ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দলিলের সময় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন আনোয়ারুল হক এবং দলিল লেখক ছিলেন হাফিজ উদ্দিন (সনদ নং-২৬৯)। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো কোনো দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে মূল দলিল, বায়া দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদিকে তৌহিদুল আলম মিলকি ওই এলাকায় গোডাউন নির্মাণ করে ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আলাদা; এর সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারের দলিল সম্পাদনকে যুক্ত করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, সোহেল রানা ঘুষ, চাপ বা কোনো ব্যক্তিগত চুক্তির ভিত্তিতে নয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় যাচাই করেই দলিল সম্পাদন করেন। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলিল, সিএস-এসএ-আরএস রেকর্ড, খতিয়ান, বন বিভাগের গেজেট ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথি পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, সোহেল রানা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কোনো অনিয়ম হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সরকারি বা গেজেটভুক্ত বনভূমি আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রীপুর তেলিহাটি ইউনিয়নের দফাদার মাদকের অভিযোগ রয়েছে লিভারপুলকে হটিয়ে ফের শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি চার দিনের ইজতেমা ছয় দিনে গড়াবে! বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যানরা কী করবেন? সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে উদ্ধার ৩০ শিশুর সামনে মায়ের গায়ে আগুন, গ্রেপ্তার ১ আগুনে ব্রাজিলের ছয় ফুটবলারসহ ১০ জনের মৃত্যু

শ্রীপুরে শিক্ষক ফারুকের ড্রাগন বাগানে সাফল্য, বছরে ফলন ২০ লাখ টাকা

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার দক্ষিণপাড়া এলাকায় চার বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন শিক্ষক ফারুক আহমেদ। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিতে এমন সাফল্য এনে এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

ফারুক আহমেদ তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং ফরিদপুর গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে আবদার গ্রামের শাহিদ মেম্বারের কাছ থেকে চার বিঘা জমি ১০ বছরের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকায় লিজ নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেন তিনি।

বাগান তৈরির প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৭৫০টি পিলার নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি পিলারে চার থেকে পাঁচটি করে চারা রোপণ করা হয়। সব মিলিয়ে বাগানে প্রায় ৪হাজার ড্রাগন চারা দিয়ে শুরু করে। এখন বাগানে প্রায় লক্ষাধিক ড্রাগন চারা রয়েছে।

ফারুক আহমেদ জানান, প্রথম বছর বাগান তৈরিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হলেও ওই বছর কোনো ফলন পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় বছর থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি ড্রাগন ফল আসছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ফল গড়ে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বাগান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ টন ড্রাগন ফল উৎপাদন হয়। এতে বছরে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়। বাগানের সার, পরিচর্যা, শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য খাতে বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, ড্রাগন চাষে শুরুতে বিনিয়োগ বেশি হলেও সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকেও বাগান পরিচর্যা ও চাষাবাদ বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে বাগান থেকে নিয়মিত আয় আসায় তিনি সন্তুষ্ট। তার মতো অন্যরাও পরিকল্পিতভাবে ড্রাগনসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফল চাষে এগিয়ে এলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ফারুক আহমেদের ড্রাগন বাগানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ বাগানটি দেখতে আসেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পরিচালিত এ বাগানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার না করে অর্গানিক পদ্ধতিতে ড্রাগন ফল উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান বাগান সংশ্লিষ্টরা।

বাগানের উৎপাদিত ড্রাগন ফল আকার, স্বাদ ও মিষ্টতায় বেশ ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ফারুকের বাগানের ড্রাগন ফলের স্বাদ ও মিষ্টতার প্রশংসা করছেন ক্রেতারা। ফলে ফল বাজারে ওঠার আগেই পাইকাররা বাগান থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত পাইকারদের কাছে ফল বিক্রি হওয়ায় বাজারজাত নিয়েও কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না উদ্যোক্তা ফারুক আহমেদকে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় যে জমিতে সাধারণ কৃষিকাজ হতো, সেখানে এখন সারি সারি ড্রাগন গাছ ও পাকা ফলের সমারোহ। শিক্ষক ফারুক আহমেদের ড্রাগন বাগানটি এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষের সম্ভাবনাও তুলে ধরছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন,উপজেলায় পাঁচ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের বাগান হয়েছে। ড্রাগন ফল থেকে জেলি ও শরবত তৈরি করা যায়। তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের ফারুক আহমেদের ড্রাগন বাগানটি আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত ও নিরাপদ পদ্ধতিতে কীভাবে ড্রাগন চাষে আরও সফলতা আনা যায়, সে বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে তাকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বাগানের পরিচর্যা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


শ্রীপুরে বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ অস্বীকার, তথ্য যাচাই করেই দলিল সম্পাদন মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি এবং সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। পরিকল্পিতভাবে দলিল লেখক হাদিউল ইসলাম-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রারকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা বনভূমি রেজিস্ট্রির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি প্রতিটি দলিলের দাতা-গ্রহীতার পরিচয়, মালিকানার কাগজপত্র, দাগ-খতিয়ান ও পূর্ববর্তী দলিল যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী দলিল সম্পাদন করেন। তার দায়িত্বকালে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার মতো কোনো অনিয়ম ঘটেনি বলেও দাবি করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী মৌজার সিএস ৫৩ নম্বর দাগের সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির ক্রেতা হিসেবে ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা তৌহিদুল আলম মিলকি এবং দাতা হিসেবে ফেনী সদর উপজেলার চাড়িপুর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম নাহিদ-এর নাম উল্লেখ করা হয়। ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওই জমির ১২৯৮২/২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। উক্ত সাব কবলা দলিলটি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় উল্লেখিত দলিলের তফসিলে এস এ দাগ ৫৭০ খতিয়ান ১৮ এবং আর এস দাগ ১০৬৯ খতিয়ান ১৫২ এর সাথে সরকারি গেজেট ভুক্ত বনের কোন সম্পত্তির মিল নেই। অর্থাৎ সরকারি গেজেট ভুক্ত বনের কোন সম্পত্তির দলিল সম্পাদিত হয় নাই। দলিলটির লেখক হিসেবে উত্তর পেলাইদ এলাকার হাদিউল ইসলাম (সনদ নং-১১১)-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সিএস ৫৩ নম্বর দাগ অনুযায়ী কোনো দলিল সম্পাদন হয়নি। তাই সোহেল রানার বিরুদ্ধে জেনে-শুনে বনভূমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১০ সালের ৬৬২৪ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দলিলের সময় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন আনোয়ারুল হক এবং দলিল লেখক ছিলেন হাফিজ উদ্দিন (সনদ নং-২৬৯)। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো কোনো দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে মূল দলিল, বায়া দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদিকে তৌহিদুল আলম মিলকি ওই এলাকায় গোডাউন নির্মাণ করে ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আলাদা; এর সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারের দলিল সম্পাদনকে যুক্ত করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, সোহেল রানা ঘুষ, চাপ বা কোনো ব্যক্তিগত চুক্তির ভিত্তিতে নয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় যাচাই করেই দলিল সম্পাদন করেন। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলিল, সিএস-এসএ-আরএস রেকর্ড, খতিয়ান, বন বিভাগের গেজেট ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথি পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, সোহেল রানা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কোনো অনিয়ম হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সরকারি বা গেজেটভুক্ত বনভূমি আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির সুযোগ দেওয়া হবে না।

Our Like Page

শ্রীপুরে বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ অস্বীকার, তথ্য যাচাই করেই দলিল সম্পাদন মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি এবং সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। পরিকল্পিতভাবে দলিল লেখক হাদিউল ইসলাম-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রারকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা বনভূমি রেজিস্ট্রির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি প্রতিটি দলিলের দাতা-গ্রহীতার পরিচয়, মালিকানার কাগজপত্র, দাগ-খতিয়ান ও পূর্ববর্তী দলিল যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী দলিল সম্পাদন করেন। তার দায়িত্বকালে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার মতো কোনো অনিয়ম ঘটেনি বলেও দাবি করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী মৌজার সিএস ৫৩ নম্বর দাগের সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির ক্রেতা হিসেবে ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা তৌহিদুল আলম মিলকি এবং দাতা হিসেবে ফেনী সদর উপজেলার চাড়িপুর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম নাহিদ-এর নাম উল্লেখ করা হয়। ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওই জমির ১২৯৮২/২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। উক্ত সাব কবলা দলিলটি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় উল্লেখিত দলিলের তফসিলে এস এ দাগ ৫৭০ খতিয়ান ১৮ এবং আর এস দাগ ১০৬৯ খতিয়ান ১৫২ এর সাথে সরকারি গেজেট ভুক্ত বনের কোন সম্পত্তির মিল নেই। অর্থাৎ সরকারি গেজেট ভুক্ত বনের কোন সম্পত্তির দলিল সম্পাদিত হয় নাই। দলিলটির লেখক হিসেবে উত্তর পেলাইদ এলাকার হাদিউল ইসলাম (সনদ নং-১১১)-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সিএস ৫৩ নম্বর দাগ অনুযায়ী কোনো দলিল সম্পাদন হয়নি। তাই সোহেল রানার বিরুদ্ধে জেনে-শুনে বনভূমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১০ সালের ৬৬২৪ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দলিলের সময় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন আনোয়ারুল হক এবং দলিল লেখক ছিলেন হাফিজ উদ্দিন (সনদ নং-২৬৯)। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো কোনো দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে মূল দলিল, বায়া দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদিকে তৌহিদুল আলম মিলকি ওই এলাকায় গোডাউন নির্মাণ করে ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আলাদা; এর সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারের দলিল সম্পাদনকে যুক্ত করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, সোহেল রানা ঘুষ, চাপ বা কোনো ব্যক্তিগত চুক্তির ভিত্তিতে নয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় যাচাই করেই দলিল সম্পাদন করেন। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দলিল, সিএস-এসএ-আরএস রেকর্ড, খতিয়ান, বন বিভাগের গেজেট ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথি পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, সোহেল রানা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কোনো অনিয়ম হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সরকারি বা গেজেটভুক্ত বনভূমি আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির সুযোগ দেওয়া হবে না।